নিজের ওয়েবসাইট! আপনার ওয়েবসাইট থেকে কিভাবে আয় করবেন?

নিজের ওয়েবসাইট
অনলাইন এ আয় করার জন্য একটি ওয়েবসাইট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা ফ্রীলান্সিং করে টাকা আয় করেন- তারা অবশ্যই নিজেদের পোর্টফলিও ওয়েবসাইট তৈরি করেন। কারন, এর মাধ্যমে একজন বায়ার পছন্দের ওয়ার্কার এর সকল কাজের বিবরণ পান।
ওয়েবসাইট তৈরি করুন, ওয়েবসাইট তৈরি করার নিয়ম, ওয়েবসাইট তৈরি করতে চাই, ফ্রি ওয়েব সাইট তৈরি, ওয়েবসাইট খোলার নিয়ম, বিনা খরচে তৈরী করুন ওয়েব সাইট, ওয়েব সাইট তৈরি করব, ওয়েবসাইট থেকে আয় করার উপায়
নিজের ওয়েবসাইট! আপনার ওয়েবসাইট থেকে কিভাবে আয় করবেন?

যেমনঃ
 কেউ এসইও করেন, কেউ বা সফটওয়্যার ডেভোলাপ করেন আবার কেউ আর্টিকেল লিখেন। এখন একজন বায়ার যদি ওয়ার্কার এর সকল কাজের বিবরণ একটা ওয়েবসাইট এ পান- তবে বায়ার এর জন্য এটা অনেক সুবিধা হয়। আমি নিজেই ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডেভলাপমেন্ট এর সাথে জড়িত। একটি নমকরা প্রতিষ্ঠানে ওয়েব ডেভলাপার হিসেবে কাজ করছি। যখন কোনো ওয়েবসাইট ক্রেতা ওয়েবসাইট ডিজাইন করাতে চান, তখন তাকে কিছু ডেমো ডিজাইন দেখাতে হয়। অথবা পূর্ব কাজের বর্ণনা দিতে হয়। এসব ব্যাপারে ফ্রীলান্সার দের জন্য ওয়েবসাইট অনেক দরকার।
শুধু মাত্র ফ্রীলান্সার দের জন্য নয়, যারা বিজ্ঞাপন এর মাধ্যমে টাকা আয় করতে চান তাদের জন্য নিজস্ব ওয়েবসাইট ছাড়া বিকল্প নেই। সারা বিশ্বের প্রতিটি দেশেই অনলাইন বিজ্ঞাপন ভিত্তিক ওয়েবসাইট পাওয়া যায়। আমি মনে করি, অনলাইন এ টাকা আয় করার সবচেয়ে নির্ভর যোগ্য মাধ্যম হলো বিজ্ঞাপন। আমি আমার নিজের ওয়েবসাইট এ ইয়াহু এর বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করি।
মাঝে মাঝে এক ক্লিকে আমি ৫ ডলার এর বেশি আয় করি। ওয়েবসাইট এ গুগল এডসেন্স এর বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে প্রতি মাসে হাজার হাজার ডলার আয় করা সম্ভব।
বিজ্ঞাপন ভিত্তিক ওয়েবসাইট এর জন্য ব্লগ বা নিউজপেপার ওয়েবসাইট বেশি প্রচলিত। এই ধরনের ওয়েবসাইট এ প্রচুর ভিজিটর থাকে। বিষয় ভিত্তিক ব্লগ তৈরি করতে পারলে, এতো টাকা আয় করা সম্ভব যে- চাকুরী করার দরকার হয় না। একটা কথা স্বাভাবিক- যেখানেই ভিজিটর সেখানেই টাকা। সবচেয়ে বেশি ভিজিটর দেখা যায় অনলাইন নিউস পেপার ওয়েবসাইট গুলোতে। নিত্য নতুন খবরের আশায় মানুষ দিনে অন্তত একবার পত্রিকার ওয়েবসাইট ভিজিট করে। তাই যেকোনো ছোট-বড় পত্রিকার জন্য অনলাইন ওয়েবসাইট থাকা জরুরী। এতে পত্রিকার প্রসারের সাথে সাথে অর্থ আয় করা যায়। আমার ধারনা বাংলাদেশে অনলাইন পত্রিকার ওয়েবসাইট গুলো মাসে ১০ লক্ষ টাকার বেশি আয় করে।
অনলাইন এ আয় করার আরো একটি উপযোগী মাধ্যম হলো- অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট বা ই-কমার্স ওয়েবসাইট। বর্তমানে বাংলাদেশে ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর প্রচুর চাহিদা ও সুযোগ রয়েছে। শপিং ওয়েবসাইট বা ই-কমার্স ওয়েবসাইট এ সরাসরি পন্য বিপনন বা কমিশন এর মাধ্যমে মাসে কয়েক লক্ষ টাকা আয় করা যায়। ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে যেকোনো পন্য বিক্রি করে, লক্ষ লক্ষ ক্রেতার মাঝে আপনার পন্য পৌঁছে দিতে শপিং ওয়েবসাইট বা ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করুন। আজকের ডিল, বিক্রয় ডট কম এই ওয়েবসাইট গুলো ঘুরলেই বুজতে পারবেন- এই ধরনের একটা ওয়েবসাইট থেকে আপনি কত টাকা আয় করতে পারবেন।
অনলাইন ব্লগ না ম্যাগাজিন ওয়েবসাইট গুলো দিন দিন বাংলাদেশে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বেশির ভাগ ইংরেজী ব্লগ বা ম্যাগাজিন ওয়েবসাইট সরাসরি গুগল এডসেন্স ব্যবহার করে প্রচুর ডলার আয় করছে। আমার নিজের ডোমেইন-হোস্টিং প্রতিষ্ঠানে এরকম বেশ অনেক গুলো ওয়েবসাইট আছে যাদের মাসিক আয় ৩০০ ডলারের বেশি। আমি নিজেই অনেক গুলো ব্লগ বা ম্যাগাজিন ওয়েবসাইট এর ডিজাইন করেছি। বাংলা ব্লগ থেকেও এখন প্রচুর আয় সম্ভব। চাইলে আমার ডিজাইন করা কিছু ব্লগ বা ম্যাগাজিন ওয়েবসাইট, নিউজপেপার ওয়েবসাইট, শপিং ওয়েবসাইট বা ই-কমার্স ওয়েবসাইট, দেখতে পারেন- স্ক্রিনশর্ট দিলাম। আমার ডিজাইন করা ওয়েবসাইট গুলো কেমন লেগেছে জানাবেন। – ভালো লাগলে মনটা আনন্দে ভরে যাবে।

আপনার ওয়েবসাইট থেকে কিভাবে আয় করবেন?
নিম্নে বর্ণীত তিনটি পদ্ধতির মধ্যে একটি কিংবা সবগুলো অবলম্বন করলে আপনি অনলাইনে ইনকাম করতে পারবেন,
১। পে-পার-ক্লিক এডস্
২। এফিলিয়েট ব্যানারস্/লিঙ্কস্
৩। কনসাল্টেন্সি/ ফ্রিল্যান্স সার্ভিস

পে-পার-ক্লিক এডস্
পে পার ক্লিক ওয়েবসাইট থেকে টাকা রোজগারের একটি প্রায় স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি। এখানে আপনি আপনার ভিজিটরদের মাধ্যমে টাকা উপার্জন করবেন। মানুষ যখন আপনার ওয়েবসাইটে আসবে তখন তারা আপনার ওয়েবসাইটের এডগুলোতে ক্লিক করতে পারে। Google adsense এ সাইন আপ করুন আর কিছু এড বক্স নিজের ওয়েবসাইটে রেখে দিন। এছাড়াও আরেকটি সাইট আছে InfoLinks -এরা আপনার ওয়েবসাইটের কনটেন্টের কিওয়ার্ড গুলোকে এড লিঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করে আর এটা Google adsense এর মতই কাজ করে।

এফিলিয়েট ব্যানারস্/লিঙ্কস্
অনেক ওয়েব সার্ভিসই এফিলিয়েট এর মাধ্যমে ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের কিছু কমিশন দেওয়ার বিনিময়ে ইনকাম করছে। আপনি আপনার হোস্টিং একাউন্ট দিয়ে এফিলিয়েট হিসেবে কাজ শুরু করতে পারেন।এছাড়াও আপনি চাইলে বিভিন্ন ওয়েব হোস্টিং কোম্পানীর এফিলিয়েটও হতে পারেন। এরজন্যে আপনার ওয়েব হোস্টিং এর দরকার পড়বে। এফিলিয়েট হিসেবে কাজ পেতে এগুলো ছাড়াও আরো রয়েছে ClickBank (ডিজিটাল পন্য, ই-বুক, সফটওয়্যার ইত্যাদি) অথবা Amazon (বিভিন্ন ধরনের পন্যের জন্য) আপনার সাইটে এফিলিয়েট ব্যানার বা এফিলিয়েটদের উপর রিভিউ লিখলে আপনার ভিজিটরগণ সেগুলোতে ক্লিক করতে আগ্রহী হবেন।

কনসাল্টেন্সি/ ফ্রিল্যান্স সার্ভিস
পেশাদার সার্ভিস দিন, অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটে কনসাল্টেন্সি সার্ভিস অথবা ফ্রিল্যান্স সার্ভিস এর উপর একটা পেজ গড়ে তোলা উচিত। এছাড়াও আপনি ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট, কপিরাইটার, লোগো ডিজাইনার এর কাজও করতে পারেন।এর মাধ্যমে আপনার কিছু ভিজিটর আপনার কাজের ক্লায়েন্ট বা গ্রাহক হতে পারবে।oDesk হল একটি জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস।
উপরোক্ত ৩টি পন্থা অনুসরণ করলে আপনি ভালোই ইনকাম করতে পারবেন!

ট্যাগ: ওয়েবসাইট তৈরি করুন, ওয়েবসাইট তৈরি করার নিয়ম, ওয়েবসাইট তৈরি করতে চাই, ফ্রি ওয়েব সাইট তৈরি, ওয়েবসাইট খোলার নিয়ম, বিনা খরচে তৈরী করুন ওয়েব সাইট, ওয়েব সাইট তৈরি করব, ওয়েবসাইট থেকে আয় করার উপায়

Comments